মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

যাওয়ার পথে যা যা চোখে পড়বে

লঞ্চ বা ইঞ্জিন চালিত বোটে করে যেতে যেতে আপনার চোখে পড়বে পাহাড় আর নদীর এক অপূর্ব মিলন দৃশ্য। দূরে দিগন্ত রেখায় পাহাড় ও মেঘের মিলন মেলা। পাহাড়ের কোলে দেখা যায় পাহাড়ী গ্রাম। বড় বড় পাহাড়ের চুড়ায় মেঘের মেলা। এসব দেখতে দেখতে আপনি যখন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সীমানা ও বরকল উপজেলার শুরু রেখায় যাবেন তখন হাতের বামপার্শ্বে পাহাড়ে “স্বাগতম বরকল উপজেলা” লেখাটি দেখলেই বুঝতে পারবেন আপনি বরকল উপজেলায় পদাপর্ণ করেছেন। এখান থেকেই শুরু বরকল উপজেলার ০১ নং সুবলং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা। পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেতে যেতে আপনার চোখে পড়বে অসংখ্য বন্য পশু পাখি। বিভিন্ন পশু পাখির ডাকে আপনি এক অনাবিল প্রাকৃতিক আনন্দ উপভোগ করবেন।

 

      যাওয়ার পথে হাতের বামপার্শ্বে পড়বে “শিলার ডাক” নামক ঝর্ণা স্পট। এখানে প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দেশী বিদেশী অনেক পর্যটকের সমাগম হয়। প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা থেকে ঝরণার পানি আছড়ে পড়ে নিচের শিলাগুলোতে। সে কিএক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

 

      ঝর্ণা স্পট পেরিয়ে কিছুদুর গেলেই সুবলং বাজার। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবারে এখানে বাজার বসে। বাজারের সাথেই দেখা যাবে একটি দ্বীপে একটি মাজার। “বায়তুল মামুর মাজার”। এ মাজারে প্রতিদিন অনেক লোক সমাগম হয়।

 

       সুবলং হতে সোজা পূর্বদিকে তাকালে দেখা যাবে বড় একটি পাহাড়ের চূড়ায় একটি ফ্রিকোয়েন্সী টাওয়ার। এটি বিজিবি কর্তৃক স্থাপিত ওয়ারল্যাস টাওয়ার। সুউচ্চ পাহাড়টি “পাকিস্থান টিলা” নামে অভিহিত। এখানকার স্থানীয় লোকজন এই পাহাড়ে চুড়াকে “ফালিতাঙ্গ্যা চুগ” নামেও অভিহিত করেন। এই পাহাড়ের দক্ষিণ দিকের পাদদেশে বরকল উপজেলা অবস্থিত।

 

      সুবলং ইউনিয়নের পর উত্তর দিকে জলপথটি ধরে আপনি যাবেন লংগদু উপজেলা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আর উত্তর পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে আপনি যাবেন বরকল উপজেলা। আঁকা বাঁকা নদীপথে রাঙ্গামাটি সদর থেকে ০২.৩০ঘন্টা অথবা ০৩.০০ঘন্টা নৌপথে আপনি বরকল সদর ইউনিয়ন বা বরকল উপজেলা পরিষদ ঘাটে অথবা বরকল বাজার ঘাটে নামতে পারবেন। বরকল উপজেলা পরিষদ ঘাট বা বাজার ঘাটে নামার পর বিপরীত দিকে তাকালে দেখবেন একটি সুউচ্চ পাহাড়। এই পাহাড়টি বরকল উপজেলার সরকারী রিজার্ভ ফরেষ্ট। এই পাহাড়ে এখনো হরিণ সহ অন্যান্য প্রাণীর ডাক শোনা যায়। গত ০৫/০৬ বছর পূর্বে এই পাহাড়ে বাঘের ডাক শোনা যেত।

     

      যদি হরিণা ইউনিয়নের হরিণা বাজার পর্যন্ত যেতে চান তবে একই লঞ্চে বা ইঞ্জিন চালিত বোটে আরো ০২.৩০ঘন্টা অথবা ০৩.০০ঘন্টা পথ অতিক্রমের পর আপনি হরিণা বাজার পৌঁছাবেন।

 

      হরিণা যাওয়া পথে পড়বে আইমাছড়া ইউনিয়ন ও ভূষণছড়া ইউনিয়ন। এ দুই ইউনিয়ন অতিক্রমের পথে আপনি দেখবেন নদীর তীর ঘেষে ছোট ছোট গ্রাম, বাজার। নদীর তীর ঘেষা এই গ্রাম ও বাজারগুলো দেখতে সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

ছবি